1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. mdalamgirhossen721@gmail.com : news :
তালাক ও সন্তান কেড়ে নেওয়ার হু/ম/কি  গৃহবধূর মৃ/ত্যু/র ঘটনায় বিচার দাবিতে বি/ক্ষো/ভ হায়দনগর এলাকাবাসী - deshjurebancharampurtv
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

তালাক ও সন্তান কেড়ে নেওয়ার হু/ম/কি  গৃহবধূর মৃ/ত্যু/র ঘটনায় বিচার দাবিতে বি/ক্ষো/ভ হায়দনগর এলাকাবাসী

মো রোমন হায়দার
  • Update Time : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬
  • ২৮১ Time View
Spread the love

মোহাম্মদ রোমন হায়দার (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি

তালাক ও সন্তান কেড়ে নেওয়ার হু/ম/কি  গৃহবধূর মৃ/ত্যু/র ঘটনায় বিচার দাবিতে বি/ক্ষো/ভ হায়দনগর এলাকাবাসী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা-এর হায়দারনগর গ্রামে গৃহবধূ নীলা আক্তার মরজিনার (২২) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, তালাকের ভয় এবং সন্তান কেড়ে নেওয়ার হুমকির কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন মরজিনা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী হুমায়ুন কবিরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।
মামলার নথি, পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক বছর আগে হুমায়ুন কবির বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মরজিনার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে মরজিনা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে হুমায়ুন বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ২০২৩ সালে মরজিনার বাবা এ.আর মুসলিম বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা-এ একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘদিন মামলা চলার পর স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে ৩ লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর হুমায়ুন বিদেশে চলে যান। তবে দেশে ফিরে আসার পর থেকেই মরজিনার ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ বলে অভিযোগ পরিবারের।
নিহতের মা মাকসুদা বেগম জানান, তার মেয়েকে প্রায়ই না খাইয়ে রাখা হতো এবং বিভিন্ন অজুহাতে মারধর করা হতো। তিনি বলেন, “আমার মেয়েটা দিনের পর দিন নির্যাতন সহ্য করেছে। সংসারের টাকা-পয়সা দিত না, উল্টো সবসময় ভয়ভীতি দেখাত।”
পরিবারের দাবি, গত মার্চ মাসে একটি সালিশি বৈঠকে হুমায়ুন প্রকাশ্যে মরজিনাকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং তাদের একমাত্র সন্তানকে কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেন। সেই ঘটনার পর থেকেই মরজিনা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
এদিকে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, গত ০৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে মরজিনা ও তার মা শারীরিক হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা সনদে “Physical Assault”-এর উল্লেখ রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
ঘটনার প্রতিবাদে আজ হায়দারনগর বতিলী বাজার এলাকায় মানববন্ধন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেখানে বক্তারা অভিযোগ করেন, হুমায়ুন কবিরের নির্যাতন ও মানসিক চাপে একটি তরতাজা প্রাণ ঝরে গেছে।
নিহতের বাবা এ.আর মুসলিম বলেন, “আমার মেয়ের ওপর কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টাও করা হয়েছিল। আমি আমার মেয়ের খুনির বিচার চাই, ফাঁসি চাই।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জামাল মেম্বার বলেন, “হুমায়ুন আগে থেকেই প্রভাবশালী ও দাঙ্গাবাজ স্বভাবের। তার অত্যাচারের কারণেই একটি পরিবার আজ ধ্বংস হয়ে গেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা কাজী ইব্রাহিম ও মতিউর রহমান বলেন, “এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। আমরা মনে করি এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পলাতক হুমায়ুনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।”
বর্তমানে অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের পরিবার দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025
Themes By ShimantoIT.com